
দেশের পণ্য আমদানির হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যবধান সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিবিএস যেখানে মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার দেখিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে তা প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
শুধু জুন মাসেই দুই সংস্থার হিসাবে ব্যবধান প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। খাতভিত্তিক তথ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ব্যয় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কম, অথচ বিবিএসের হিসাবে তা প্রায় পৌনে ৬ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও এক সংস্থার হিসাবে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার, অন্যটির হিসাবে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এর প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য ঘাটতির হিসাবেও। বিবিএসের হিসাবে ঘাটতি প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, হিসাব পদ্ধতি, সংজ্ঞা ও তথ্যের উৎসের পার্থক্য থেকে ব্যবধানের একটি অংশ তৈরি হতে পারে। তবে এত বড় অঙ্কের পার্থক্যের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কারণ প্রকৃত আমদানি ব্যয় কত, বৈদেশিক মুদ্রা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই হিসাব স্পষ্ট না হলে অর্থপাচারের সন্দেহসহ নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তাই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবধানের উৎস কোথায়, তা পরিষ্কার করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিবিএস ও এনবিআরের সমন্বিত ব্যাখ্যা এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।